What’s Active & Passive income|Passive income ideas|প্যাসিভ ইনকাম দ্বারা অল্প কাজ করে কিভাবে ইনকাম করা যায়?

অর্থ এমন একটি সম্পদ যার দ্বারা জীবনের ৯৫% চাহিদা পুরুন করা সম্ভব। তাই জীবনে সবরকম চাহিদা পূরুন করার পিছনে অর্থ মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে কম পরিশ্রম করে lifetime অর্থ উপার্জন করা যায়? তাই আজকের এই আর্টিকেলে অর্থ উপার্জনের কিছু বিজ্ঞান সম্মত (Passive income) পদ্ধতি এবং সাধারণ (active income)পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করবো। আপনি যদি এই অর্থ ইনকামের দুটি কন্সেপ্টের মধ্যে তফাৎ বুঝেতে পারেন এবং সঠিক বিজ্ঞান সম্মত (Passive income) কন্সেপ্টের উপর কাজ করেন তাহলে আপনি ৩৫ বছর বয়স আপনার কর্ম জীবন থেকে বিরতি নিতে পারবেন এবং আপনার একাউন্টে অর্থ অটোমেটিক recived হতে থাকবে। আপনাকে কোনো রকম অনটনের সমুখীন হয়ে হবে না। আপনি না থাকলেও আপনার পরিবারের কোনো রকম অসুবিধা হবে না। আপনি দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াবেন আপনার ব্যাঙ্ক account এ টাকা ঢুকতে থাকবে। আপনি যদি এই এই রকম লাইফ স্টাইল injoy করতে চান তাহলে সম্পর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

এক্টিভ ইনকাম (active income):

Active income হলো অর্থ উপার্জন করার একটি সাধারণ কনসেপ্ট অর্থাৎ যখন আপনি কাজ করবেন তখন আপনার হাতে অর্থ আসবে অনেকটা দৈনিক মজুরি মতো। আপনি যেদিন কাজ করবেন সেদিন আপনার ইনকাম হবে আবার যদি কাজে না যান তাহলে আপনার ইনকাম হবে না।

তাহলে আপনি এবার বুঝতে পারছে যে কোন কোন কাজ গুলি active income এর মধ্যে পড়ছে। এই active ইনকামের মধ্যে পড়ছে বিশেষে করে- চাকরি (job), দৈনিক মজুরি (day-lebar).

আপনার মনে প্রশ্ন জগতে পারে চাকরি (job) কীভাবে Active income আর মধ্যে পড়ছে? আমি ধরে নিলাম যে আপনি একটি চাকরি করছেন এবং আপনি কোনো (অসুস্থতার) কারণে আপনি job করতে যেতে পারেননি তাহলে সেক্ষেতে আপনার বেতন কাটা যাবে। তাহলে হলো না সেই দৈনিক মজুরির মতো ব্যাপার।

আপনি যদি active income এর পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জন করেন তাহলে আপনি চাইলে active এর পাশাপাশি Passive income পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

প্যাসিভ ইনকাম (Passive income):

Passive income হলো অর্থ উপার্জন করার একটি বিজ্ঞান সম্মত কনসেপ্ট। এটি এক্টিভ ইনকামের থেকে অনেকটা ভিন্ন। এক্ষেত্রে আপনি যদি কাজ নাও করেন তাহলে আপনি ইনকাম করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি এমন কিছু কাজ করবেন যার ফল (ইনকাম) লাইফ টাইম পেতে থাকবেন। এই রকমের ইনকাম পদ্ধতিকে Passive Income বলে।

প্যাসিভ ইনকাম দ্বারা আপনি সম্পর্ণ আর্থিক স্বাধীন (financial freedom) পেতে পারেন। আপনি যেখানে মন চাইবে সেখানে যেতে পারবেন। কাজ আপনি করুন বা না করুন টাকা আপনার একাউন্টে কম বেশি recived হতে থাকবে।

প্যাসিভ ইনকাম করা জন্য সবার প্রথমে আপনাকে এমন একটি সিস্টেম বানাতে হবে, যেখানে আপনি কয়েক মাস কাজ করবেন এবং সেই কাজের বিনিময়ে লাইফ টাইম ইনকাম পাবেন। তাই আপনাকে সবার প্রথমে সিস্টেম বানানোর উপরে খুব পরিশ্রম করতে হবে, তবেই আপনি প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ পাবেন নতুবা নয়।

একটি উদাহরণ দিয় তাহলে আপনি passive income এর বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন:-

একটি গ্ৰামে দুটি ছেলে ছিল রাম আর শ্যাম। তারা ছোট বেলা থেকে এক সঙ্গে বড়ো হয়েছে। যখন তাদের বয়স ২১ বছর হয়েছে তখন ভাবলো যে এতদিন তারা ঘুরে ঘুরে বেরিয়েছে কিন্তু এখন তাদের ইনকাম করা উচিত। তারা ইনকাম করার রাস্তা খুঁজছিলো। এমন সময় তারা দেখতে পেলে যে গ্রামের মেয়েরা পাশের গ্রামের উঁচু পাহাড় থেকে কলসিতে করে জল নিয়ে আসছে। তাদের মাথায় একটু বুদ্ধি আসে তারা জলের ব্যবসা করবে। তারা দুজনে উঁচু পাহাড় থেকে জল নিয়ে এসে তাদের গ্রামে বিক্রি করবে। ধীরে ধীরে তাদের business grow হতে থাকে। কয়েক মাস পরে তারা দুজনে উঁচু পাহাড় থেকে জল নিয়ে এসে এসে ক্লান্ত হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন শ্যামের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে যে তারা যদি পাইপ লাইনের মাধ্যমে যদি উঁচু পাহাড় থেকে জল আনে তাহলে তাদেরকে আর কঠোর পরিশ্রম করতে হবে না অটোমেটিক সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ হতে থাকবে। তাই তারা কামারের কাছে যায় পাইপ লাইন বানানোর জন্য। কিন্তু কামার বলে এই কাজটি করতে অনেক সময় লাগে যাবে। অনেক সময় লাগবে বলে রাম এই পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে সে একা উঁচু পাহাড় থেকে কঠোর পরিশ্রম করে জল নিয়ে শেষ বিক্রি করতে থাকা। কিন্তু শ্যাম সময়ের পরোয়া না করে তার পাইপ লাইনের সিস্টেম বানানোর জন্য কাজ করতে থাকে। একদিন সফল ভাবে তার সিস্টেম বানানো হয়ে যায়। ফলে শ্যাম শুধু টেপ কল (সিস্টেম) চালু করে জল বিক্রি করতে থাকে অন্য দিকে তার বন্ধু রাম উঁচু পাহাড় থেকে জল এনে বিক্রি করে। ফলে একই সময়ে কম পরিশ্রম করে শ্যাম রামের তুলনায় অধিক পরিমানে অর্থ উপার্জন করে।

Passive income

এক্ষেত্রে শ্যাম কাজ না করে Passive income -এর মাধ্যমে বসে বসে অর্থ উপার্জন কছে। প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য সবার প্রথমে আপনাকে পরিশ্রম করে একটি সিস্টেম বানাতে হবে তার পরে আপনি সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

Passive income করার বিভিন্ন রকমের রাস্তা রয়েছে যেখানে সিস্টেম বানিয়ে ইনকাম করতে পারেন। নিম্নে passive income এর source সমন্ধে আলোচনা করা হলো-

Passive income Ideas:

🟢ব্যবসা (Businness):

ব্যবসা হলো এমন একটি প্যাসিভ ইনকামের উৎস, যেখানে আপনি যদি একবার সিস্টেম বানিয়ে প্রোডাক্টস বা সার্ভিস বিক্রি করতে পারেন তাহলে সেখান থেকে আপনি লাইফ টাইম ইনকাম করতে পারেন এবং পরে আপনার business এর দায়িত্ব আপনার সুবিধা মতো একজন লোকে দিয়ে আপনি বসে বসে ইনকাম করতে পারেন।

🟢ভাড়া দেওয়া (Rent/Real estate):

Real estate (রেন্ট) হলো এমন একটি প্যাসিভ ইনকাম আর source যার মাধ্যমে আপনি লাইফটাইম প্যাসিভ ইনকাম পেতে পারবেন। এই প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য সবার প্রথম আপনাকে একটি সিস্টেম অবশ্যই বানাতে হবে। তাই আপনাকে ভাড়া বাড়ির প্রয়োজন হয় এমন একটি অনুকূল পরিবেশে আপনার একটি নিজস্ব বাড়ি বানাতে হবে বা ক্রয় করতে হবে। তার পরে আপনি ওই বাতিটিকে রেন্টে দিয়ে প্রতিমাসে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করতে পারেন।

🟢Youtube channel (ভিডিও বানানো):

ইউটুব চ্যানেল হলো এমন একটি প্যাসিভ ইনকামের source যে আপনি একবার কাজ করে (video uplode) করে সেখান থেকে আপনি লাইফ টাইম ইনকাম করতে পারবেন। প্রথমে আপনাকে Youtube channel এর সিস্টেমটাকে বানাতে হবে। এই সিস্টেম বানানোর জন্য আপনাকে ফলের আসা না করে সিস্টেম বানানোর জন্য ৬-৮ মাস কাজ করে যেতে হবে তার পরে আপনি যখন সিস্টেমটি একবার বানিয়ে ফেলবেন তখন আপনি আপনার পরিশ্রম থেকে প্যাসিভ ইনকাম পেতে থাকবেন। পরে আপনি যদি সপ্তায় ২দিন কাজ (video uplode) করেন তাহলে আপনার কম-বেশি ইনকাম আস্তে থাকবে।

🟢Bloging (লিখা-লিখি):

Bloging হলো ইউটুবের মতো একটি passive income এর source . ব্লগিং আপনি ভিডিও নয় আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখে সেই আর্টিকেলটি থেকে lifetime Passive income করতে পারেন। ইউটুবের মতো এখানোও আপনাকে একটি সিস্টেম (website) অবশ্যই বানাতে হবে। তার পরে আপনি এই সিস্টেম থেকে passive ইনকামের সুযোগ পাবেন। এই সিস্টেম বানাতে আপনাকে ৫-৬ মাস সময় লাগবে। আপনি যদি ইউটুবের মতো এখানে সপ্তাহে ২দিন কাজ (article post) করেন তাহলে আপনার ইনকাম আস্তে থাকবে।

বর্তমানে আপনি এখন আমার এই আর্টিকেলটি পড়ছেন এটি আমার একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স। এই আর্টিকেলটি লিখার জন্য আমি একবার কাজ করেছি। যতদিন না আমি এই আর্টিকেলটি delite করবো ততো দিন আমি এই আর্টিকেলটি থেকে প্যাসিভ ইনকাম পেতে থাকবো। অর্থাৎ আমি এই আর্টিকেলটি ডিলিট করবো না তাই আমি সারা জীবন এখান থেকে প্যাসিভ ইনকাম পেতে থাকবো।

🟢অনলাইন কোর্স বিক্রি (Cource sell):

বর্তমান সময় শিক্ষার বিষয়টি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কিছু জিনিয়াস লোক এই শিক্ষার দানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্যাসিভ ইনকামের সোর্স বানিয়ে ফেলেছে। তারা কোনো একটি বিষয়ের উপর video course সিস্টেম বানিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রি করে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করছে। আপনি যদি কোনো বিষয়ের উপর পারদর্শী হন তাহলে এই রকম ভাবে সিস্টেম বানিয়ে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করতে পারেন।

🟢নেটওয়ার্ক মার্কেটিং:

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং হলো প্যাসিভ ইনকামের অন্যতম একটি প্রধান উৎস। এই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য সবার প্রথমে আপনাকে একটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম বানাতে হবে। এই সিস্টেম বানানোর জন্য আপনাকে একটি বড়ো নেটওয়ার্ক বানানোর জন্য আপনাকে প্রথমের দিকে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে তার পরে আপনি আপনার নীচের থাকা লোকেরা কাজ করবে আপনি তার থেকে প্যাসিভ ইনকাম পেতে থাকবেন।

🟢Affiliate মার্কেটিং ও রেফারাল মার্কেটিং:

Affiliate marketing এবং রেফার মার্কেটিং হলো একটি সহজ সরল Passive income এর source. এখন থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে খুব সামান্য কাজ লাইফটাইম ইনকাম করতে পারেন। affiliate মার্কেটিং থেকে প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য আপনার কাছে একটি সিস্টেম (Youtube channel, Blog site, Social media page) থাকতে হবে তবেই আপনি এখন থেকে ইনকাম করতে পড়বেন।

🟢Stock market:

Stock market বা শেয়ার বাজারের মাধ্যমে প্যাসিভ ইনকাম করার যায়। শেয়ার বাজারে কারবার করার জন্য আপনাকে খুব রিসার্চ করে ভবিষতে গ্রও করতে পারে এমন কোম্পানির শেয়ারের উপর ইনভেস্ট করতে হবে তার পরে ওই শেয়ারের price বৃদ্ধি পেলে আপনি সেখান থেকে passive income পেয়ে যাবেন।

আর্থিক ভাবে স্বনিভর হওয়ার জন্য আপনি রবার্ট টি কিয়োসাকি “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” বই টি পড়তে পারেন। এই বই টিতে লেখক “ধনীরা তাদের সন্তানদের টাকা পয়সার ব্যাপারে কী শেখায়, যা গরিব আর মধ্যবিত্ত শ্ৰেনি শেখায় না” এই বিষয়ে লিখেছেন।

আমার শেষ কথা;

Passive income হলো অর্থ উপার্জনের এমন একটি source যেখানে আপনি খুব অল্প পরিশ্রম করে সেই সেই পরিশ্রমের ফল লাইফটাইম পেতে পারেন। তাহলে আজকের এই আর্টিকেল Active ও Passive income সমন্ধে একটি সম্পর্ণ ধারণা দিতে পেরেছি। এছাড়াও passive income করার indea দিতে পেরেছি। এবার সিদ্ধান্ত আপনি নেবেন আপনি Active না Passive পদ্ধতি অবলম্বন করে অর্থ উপার্জন করতে চান!

যদি এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাকে ইনকাম করার একটি সঠিক রাস্তা দেখতে পেরেছি তাহলে আমি মনেকরবো আমার এই লিখাটি সার্থক হয়েছে। যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই পানার প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। এবং এই বিষয়ের উপর কোনো রকম সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই comment করে জানাবেন, আমি অবশ্যই reply করার চেষ্টা করবো। আর্টিকেলটি শেষে পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment